Habibur Rahman

যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় মা’মনি ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় এক প্রসূতির করুন মৃত্যু”

আপডেট নিউজ ডেক্স: যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ার আখি টাওয়ারে অবস্থিত মা’মনি হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি বে-সরকারী হাসপাতালে ২৮ শে নবেম্বর শনিবার সন্ধায় ক্লিনিক কতৃপক্ষের অবহেলায় অপচিকিৎসা পেয়ে  সেলিনা খাতুন (৩৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রসূতি সেলিনা শার্শা উপজেলার ইছাপুর গ্রামের রওশন আলীর স্ত্রী। সেলিনা খাতুনের মা মনোয়ারা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,আমি আমার মেয়ের সাথে হাসপাতালে সর্ব সময় পাশে ছিলাম। সঠিক ভাবে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।আমার মেয়ের কাটা জায়গা থেকে রক্ত বের হয়ে আমার হাত ভিজে গেছে।

এ বিষয়ে মা’মনি ক্লিনিকের পরিচালক শরীফ আহম্মেদের কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,রোগী সুস্থ ছিল। তবে ঠিক সময়ে ঔষধ না খাওয়ানোর কারনে রোগীর প্রেসার বৃদ্ধি পেয়ে মারা গেছে।ঠিক সময় মত রোগীকে ঔষধ খাওয়ানো হয়নি কেন। এমন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তিনি ব্যস্ত আছি ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ শে নবেম্বর মঙ্গলবার প্রসূতি সেলিনাকে মা’মনি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় এবং ডাক্তার আবুল বাশার ও এনেস্থিসিয়া ডাক্তার এবিএম আক্তার মারুফের তত্বাবধানে সিজার করানো হয়।

সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায় যে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে এ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।বাংলাদেশ সরকারের দি মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক ল্যাবরেটরীজ রেজুলেশন অডিন্যান্স ১৯৮২ মোতাবেক বেসরকারী ক্লিনিকে যে সব জনবল, চিকিৎসা যন্ত্রাংশ এবং পরিবেশ বজায় থাকার কথা এ ক্লিনিকে তার লেশ মাত্র নেই। এ ক্লিনিকে মারাত্মক অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা আর অস্বাস্থ্যকর অবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে নেই কোন সিনিয়র স্টাফ নার্স। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে পেটে ভাতে মেয়েদের দিয়ে চলে সিনিয়র স্টাফ নার্সের কাজ।এই ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা আরও শোচনীয়। অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আলোর ব্যবস্থা নেই।অথচ এখানে চলছে বড় বড় সব অপারেশন।ফলে রোগী ক্লিনিক ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় ভুগে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়।

এসব অব্যবস্থা অনিয়ম অস্বাস্থ্যকর ভুল ও অপচিকিৎসার বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।অথচ মোটা অংকের টাকা পেয়ে দেখেও না দেখার ভান করে নিশ্চুপ রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক সুকদেব রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা এখনও কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

admin: